Today's News/আজকের সংবাদ

From WikiEducator

Jump to: navigation, search

Contents

Today is 11th March 2010

আজ ১১ মার্চ ২০১০ বৃহস্পতিবার

Image:11-03-10-1.jpg

মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে কঠোর বিধান

সিম কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে
সমকাল প্রতিবেদক: মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি, হুমকি ও এর অপব্যবহার বন্ধে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন কোম্পানির নিবন্ধনহীন মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। নেতা-নেত্রীসহ সমাজের প্রভাবশালীদের হুমকি দেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে বেশি। ফলে সরকার মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সিমের অপব্যবহার বন্ধে এই আইন করতে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি, হুমকি ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধকল্পে প্রণীত সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি সারসংক্ষেপ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সারসংক্ষেপেই একটি আইন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এখন থেকে মোবাইলের সিম সহজে কেনা যাবে না। ১৮ বছর বয়সের নিচে কেউ সিম কিনতে পারবে না। সিম বা রিম কিনতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি ইচ্ছা করলেই আর কেউ ফুটপাত বা পাড়া-মহল্লার দোকানে সিম বিক্রি করতে পারবেন না। সিম বিক্রির জন্য প্রত্যেক অপারেটরের এলাকাভিত্তিক একজন খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ দিতে হবে। এই খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের একটি তালিকা বিটিআরসি ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দিতে হবে। নূ্যনতম এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে কাউকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সন্ত্রাসীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আস্তানায় প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিবন্ধনহীন সিম। অতি মাত্রায় অবৈধ সিমের ব্যবহার বেড়েছে।
মোবাইল ফোনের সিম বা রিম সহজলভ্য হওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা একাধিক নিবন্ধনহীন সিম ব্যবহার করছে। সরকারের মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে বহু প্রভাবশালী হুমকির শিকার হচ্ছেন। মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তরুণীরাও। পুলিশ এদের ধরতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ নিবন্ধন না থাকায় এদের মালিকদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার ভুয়া নামেও অনেক নিবন্ধন রয়েছে। এ কারণে পুলিশ এ বিষয়টা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে। ফলে সিম নিবন্ধন বাধ্যতামূলকসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গতকাল।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে হুমকি, চাঁদাবাজি ও এর অপব্যবহার বন্ধে করণীয় নির্ধারণ করতে সরকার গত ১ জুন বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি বন্ধে একটি সুপারিশ করে। গতকাল বৈঠকে এই সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতেই মোবাইল ফোনে হুমকি ও চাঁদাবাজি বন্ধে ১০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে একটি আইন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপস্থাপিত সারসংক্ষেপে বলা হয়, মোবাইলের মাধ্যমে সৃষ্ট অপরাধ তদন্তে প্রচলিত আইনে ঘাটতি রয়েছে। টেলিফোন অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি দণ্ডবিধিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। এতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এসব অপরাধ চিহ্নিতকরণ বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ১৮ বছরের নিচে কেউ সিমকার্ড কিনতে পারবে না। ১৮ বছরের ঊধর্ে্ব কারও সিমকার্ড কেনার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ একজন শনাক্তকারীর নাম ও ঠিকানা লাগবে। তাদের নিবন্ধন ফরমে দেওয়া ঠিকানা নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে সংরক্ষিত ঠিকানার সঙ্গে মেলানো হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নিবন্ধনহীন ২ লাখ সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এমন নিবন্ধনহীন সিম পাওয়া গেলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা এখন রাস্তায় দেখি পানের দোকানদারও সিমকার্ড বিক্রি করছেন। নতুন সিদ্ধান্তে এসএসসি পাস ছাড়া কেউ সিমকার্ড কিনতে পারবে না। মোবাইল ফোনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মোবাইল অপারেটরদের একটি কমিটি থাকবে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও একটি পর্যবেক্ষক দল থাকবে। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে তিনি মোবাইল অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানান।
বর্তমানেও কোনো সিম বা রিম বিক্রির সময় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। কিন্তু এ নিয়ম তেমনভাবে মানা হয় না। বহু মুদি দোকানে নিবন্ধন ছাড়াই সিম বিক্রি হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সিম বা রিম বিক্রয়কারী ডিলারদের যথাযথ পুলিশ ভেরিফিকেশনের আওতায় আনা হবে। প্রত্যেক খুচরা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র থাকতে হবে। প্রত্যেক অপারেটর সর্বোচ্চ এলাকাভিত্তিক একজন খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ দিতে পারবেন। খুচরা বিক্রেতাদের ঘন ঘন পরিবর্তন করা যাবে না। খুচরা বিক্রেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত যারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল সেট বিক্রি এবং মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রি করে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। খুচরা বিক্রয়কারীর কাছে অপারেটরদের দেওয়া পরিচয়পত্র থাকতে হবে। তারা অবৈধ সিম বিক্রি করছে কি-না এটা পর্যবেক্ষণ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নির্দিষ্ট সময় পরপর তাদের ব্যবসা কেন্দ্র পরিদর্শন করবে। প্রত্যেক অপারেটর সিম বা রিমের ক্রেতা, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট ডিলার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য একটি ডাটাবেজে সংরক্ষণ করবে। সিম এবং ফোন বিক্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনা অপারেটরদের সব খুচরা বিক্রয়কারীর কাছে পেঁৗছতে হবে। সিম নিবন্ধন ফরমটি সাধারণ জনগণের কাছে সহজ করতে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি ফরমের কপির সংখ্যা বাড়িয়ে চার কপি করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফরমে কোনো ক্রেতা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য সরবরাহ করলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিম বা রিম বিক্রয় ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ না করলে এবং অসত্য তথ্য পরিবেশন করলে অপারেটররা তাদের জামানত বাজেয়াপ্তসহ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, নিবন্ধন ছাড়া কোনো সিম কার্ড বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশে বর্তমানে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা দু'কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করছে। অবৈধ সিম বন্ধ করতে সরকার যে আইন করতে যাচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কোম্পানির সিনিয়র কর্মকর্তা সমকালকে জানান, মোবাইল ফোনের দ্রুত প্রসার হওয়া জরুরি। আধুনিক এ যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তবে একথাও সত্য, সিমের অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে। সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তবে আইনের অপব্যবহার যেন না হয় সেটাও দেখতে হবে। কোনোভাবেই সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে কোনো ভীতি সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।
-সমকাল

Image:11-03-10-2.jpg

বীজ সংকটে প্রতারিত কৃষক

আলতাব হোসেন: ফসল উৎপাদনের মূল উপকরণ বীজ নিয়ে চরম প্রতারণা চলছে কৃষকদের সঙ্গে। চড়াদামে বীজ কিনে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না কৃষক। অনেক সময় পুরো ফসলই নষ্ট হয়। তারপরও বীজ কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে আছেন কৃষক। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও বীজ কোম্পানির স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় বীজমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি নকল বীজ বিক্রি করে কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে ওই কোম্পানির নাম-ধাম গণমাধ্যমে প্রকাশ ও তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। কোম্পানিগুলো সারাদেশে নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে বীজ বিক্রি করলেও কৃষকদের কোনো ক্যাশমেমো দেয় না। বীজ কিনে প্রতারিত হলে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন না কৃষক। গ্রামের হাট-বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ বীজের প্যাকেটের গায়ে কোম্পানির নাম-ঠিকানাও থাকে না। অনেক সময় কোম্পানির নাম-ঠিকানা থাকা প্যাকেটের বীজ থেকে ফসল উৎপাদন না হলে কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাদের প্যাকেট নকল করে ভুয়া কোম্পানি বীজ বিক্রি করেছে বলে দায় এড়িয়ে যায়। অথচ বোকার ফসল পোকায় খায়_ এ রকম চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে কৃষকের কাছে কীটনাশক বিক্রি করছে কোম্পানিগুলো। দুই বছর ধরে হাইব্রিড বীজে বিএলএস ও বিএলবি রোগ দেখা দিয়েছে। হাইব্রিড বীজ কিনে ধান রোপণ করে কৃষক কোনো ধানই ঘরে তুলতে পারেননি।
দেশের মোট বীজ চাহিদার ২২ ভাগ কৃষি মন্ত্রণালয় সরবরাহ করার দাবি করলেও বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোর গবেষণায় তা ১১ ভাগ বলে জানানো হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন বিভিন্ন বীজের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরকারি সরবরাহ সবমিলিয়ে দেড় লাখ টনেরও কম। বীজ সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে আমন, আউশ, গম ও পাটের আবাদি এলাকা কমছে। বীজ সংকটের কারণে প্রতি বছর দেশের অনেক এলাকা অনাবাদি থেকে যায়। চলতি বোরো মৌসুমেও বীজের অভাবে দুই থেকে তিন লাখ হেক্টর জমি শেষ পর্যন্ত অনাবাদি থাকছে। বীজ সংকটের কারণে লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয় না। এরই সুযোগ নিয়ে কিছু কোম্পানি ভেজাল বীজ প্যাকেট করে চড়াদামে বিক্রি করে। কৃষক এ নিম্নমানের বীজ রোপণ করে ভালো ফলন পান না। জাতীয় উৎপাদনের টার্গেটও পূরণ হয় না।
নেত্রকোনার কলমাকান্দার বাউশাম এলাকার কৃষক আবু সামা উপজেলা সদরের হারাধান সিড ভাণ্ডার থেকে গত বছর বোরো ধানের হাইব্রিড বীজ উচ্চমূল্যে সংগ্রহ করেন। তাকে বলা হয়, উৎপাদন হবে হেক্টরে সাত টন। কিন্তু ধান রোপণের পর থেকেই তার ক্ষেত বিএলবি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। পুরো ক্ষেতে ধানগাছের পাতা পুড়ে যায়। তিন একর জমিতে এক ছটাকও ধান হয়নি। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ডিলারকে জানালে বলা হয়, ঠিকমতো সার ও সেচ না দেওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে। পরে তিনি ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু প্রমাণ করতে না পারায় মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দেশের যে এলাকা সফরে যান, সেখানেই কৃষক বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করছেন। অনেকেই বীজ কোম্পানির প্যাকেট নিয়ে মন্ত্রীর সামনে হাজির হন। সম্প্রতি মন্ত্রী শেরপুর, বরিশাল, নেত্রকোনায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে যান। সেখানে শত শত কৃষক বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার কথা মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তারা বিভিন্ন কোম্পানির বীজের প্যাকেট মন্ত্রীকে দেখান।
প্যাকেট নকল করে কিছু কোম্পানি নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করে বলে স্বীকার করেন দেশের প্রথম বেসরকারি বীজ কোম্পানি লাল তীরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, তাদের কোম্পানির প্যাকেট নকল করে দেশের কয়েকটি স্থানে নিম্নমানের বীজ বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নজরে এলে পত্রিকায় ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিয়ে কোম্পানির নিজস্ব ডিলারের কাছ থেকে বীজ কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, কৃষকের পক্ষে আমাদের কোনো নীতিমালা নেই। বীজ কিনে বা অন্য কোনো কারণে ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পান না কৃষক। ফসলের ক্ষতি হলে কৃষক যাতে শস্যবীমার সুযোগ পান তার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কোল্ডস্টোরেজের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, গুদামে আলু রাখার সময় একটি রসিদ দেওয়া হয় কৃষককে। তাতে ১১টি শর্ত থাকে। যার একটিও কৃষকের পক্ষে নয়। আলু পচে নষ্ট হলেও কৃষক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের (বীজ উইং) মহাপরিচালক আনোয়ার ফারুক বলেন, গত ২০০৭-০৮ সালে মোট চাহিদার ১৮ শতাংশ বীজ সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। ২০১০-১১ সালে সরবরাহ বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছে। আগামী ২০১৪-১৫ সালে তা ২৭ শতাংশে উন্নীত করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন ফসলের প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন বীজ প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বীজ আমদানি এবং বাকি ৯৫ শতাংশ বীজ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা হয়।
এ বিষয়ে বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. এসএম নাজমুল ইসলাম মোট চাহিদার প্রায় ৫০ ভাগ বীজ বিএডিসি সরবরাহ করে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিএডিসির বীজ মানসম্পন্ন বলে দ্রুত এর সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মাহবুব আনাম বলেন, নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের বীজ ব্যবসায়ীদের জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল ও দোকান বন্ধ করার একটা নীতি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। তবে নকল বীজ বন্ধে সরকারের মনিটরিং বাড়ানো দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বীজ সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে তিনি বলেন, বীজ উৎপাদনে অনেক বড় বিনিয়োগের দরকার হয়। এক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট বিনিয়োগ বাড়ানো হলে বীজের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
বোরো মৌসুম : প্রতি বছর কমবেশি ১ লাখ ২০ হাজার টন বোরো বীজের প্রয়োজন। এর মধ্যে বিএডিসি সরবরাহ করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন। আর প্রাইভেট সেক্টর করে ২০ হাজার। এর ১২ হাজার টন হাইব্রিড বীজ। ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে হাইব্রিড ধান চাষ হচ্ছে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও চীনে প্রায় ৪০০ টন হাইব্রিড ধানবীজ রফতানি করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে ৭ কোটি ৮৭ লাখ টন চাল উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ করেছে। টানা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বোরো মৌসুমে বীজের জন্য কৃষক মহলে হাহাকার পড়ে যায়। বিএডিসির বীজ মানসম্মত হওয়ায় কৃষক কয়েকগুণ বেশি দামে এই বীজ সংগ্রহ করতে আগ্রহী।
আমন : আমন মৌসুমে প্রায় ৫৫ থেকে ৫৮ লাখ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। উৎপাদন হয় ১ কোটি ৩০ লাখ টন চাল। আমন বীজের দরকার হয় ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন। কিন্তু বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বীজ সরবরাহ করতে পারে মাত্র ৪০ হাজার টন। বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো বছর প্রথম দফায় বীজতলা নষ্ট হলে দ্বিতীয়বার বীজের চরম সংকট দেখা দেয়। আউশ : কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়। এ থেকে প্রায় ২০ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়। সরকারিভাবে আউশের কোনো বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয় না।
গম : দেশে গত বছর ৪ লাখ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টন। বছরে গমবীজের দরকার হয় ৬০ হাজার টন। এর মধ্যে বিএডিসি ৬ হাজার টনও সরবরাহ করতে পারে না। বীজ ও অন্যান্য কারণে গমের আবাদি এলাকা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৯৯৮-৯৯ সালেও দেশে ২১ লাখ ৮০ হাজার একর জমিতে গম চাষ করা হয়।
পাট : কয়েক বছর ধরে পাটের দাম বাড়ায় কৃষকরা নতুন করে পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ বছর পাটের দাম ছিল ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আড়াই হাজার টাকা মণ দরে এবার পাট কেনাবেচা হয়। এ মাসেই শুরু হবে পাটবীজ রোপণ, চলবে মে পর্যন্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ভালো দাম পাওয়ার আশায় এবারও কৃষক পাট চাষে ঝুঁকবেন। গত বছর ৫ লাখ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। এবার তা ৮ লাখ হেক্টরে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কম করে হলেও ১০ হাজার টন পাটবীজের দরকার হবে এবার। বিএডিসি ১ হাজার টনের বেশি বীজ কৃষক পর্যায়ে দিতে পারবে না। পাটবীজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে সিদ্ধ ও নিম্নমানের পাটবীজ বাংলাদেশে রফতানি করা হয়। যাতে বাংলাদেশ পাট চাষে লাভজনক হতে না পারে। তারপরও ভারতীয় নিম্নমানের বীজের দাম থাকে চড়া।
আলুবীজ : আলুবীজেরও তীব্র সংকট হয় প্রতি বছর। সংকটের কারণে বিএডিসির বীজ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চলতি বছর আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৭০ লাখ ৮২ হাজার টন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৪ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টন আলুবীজের স্থলে সরকার মাত্র ২০ হাজার টন আলু বীজ সরবরাহ করে। বাকি বিপুল পরিমাণ বীজের জন্য কৃষককে নির্ভর করতে হয়েছে বেসরকারি কোম্পানির ও নিজেদের সংগৃহীত সাধারণ বীজের ওপর।
তুলা : দেশে বছরে তুলার চাহিদা সাড়ে ৫ লাখ টন। উৎপাদন হয় মাত্র ১২ হাজার টন। বীজ সংকটের কারণেই মূলত লাভজনক তুলা চাষ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের দিকে দেশে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হতো। গত বছর তুলা চাষ হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ হেক্টর জমিতে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলাবীজের চাহিদা মেটাতে পারে না। গত বছর থেকে দেশে হাইব্রিড তুলা চাষ শুরু করেছে সুপ্রিম সিড কোম্পানি। কোম্পানির পরামর্শক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, সুপ্রিমের তুলার উৎপাদন হচ্ছে হেক্টরে সাড়ে তিন থেকে চার টন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে চাঙ্গা করে উন্নত মানের বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করতে পারলে বাংলাদেশ আগামীতে তুলা রফতানি করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
-সমকাল

Image:11-03-10-3.jpg

পরিবহন চাঁদাবাজি বছরে ৩৮৮ কোটি টাকা

রাজধানীর চিত্র
মাহবুব আলম লাবলু/নাহিদ তন্ময়: রাজধানীতে পরিবহন খাত থেকে দিনে গড়ে এক কোটি আট লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। বছরে চাঁদাবাজির পরিমাণ প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নামে এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি রোধ করতে পারছে না পুলিশ। অবৈধ আয়ের এই 'সোনার খনি' দখলের লড়াইয়ে ঘটছে খুনোখুনির ঘটনা। গডফাদাররা অবৈধ এ টাকার একটি অংশ ওড়াচ্ছেন নগরীর বেশ কয়েকটি অভিজাত হোটেল ও ক্লাবের নাচঘরে। কেউ আবার মোটা টাকা খরচ করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব রঙমহল। পুলিশ ও প্রভাবশালীদের এসব রঙমহলে নিয়ে ম্যানেজ করা হয়। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণও বদল হয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা 'কাঁচা টাকার' টানে পরিবহন চাঁদাবাজিতে এতটাই সক্রিয় যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট ডাকছেন মালিকরা।
এদিকে পরিবহন খাতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের গঠন করা যৌথ কমিটির নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধেই রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। ১৯ সদস্যের কমিটির ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা। বাকি ১০ জন পরিবহন খাতের বিভিন্ন কমিটির নেতা। এদের লোকজন শ্রমিকদের কল্যাণের নামে রসিদ দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে খরচের নজির খুব কম। মাঠ পর্যায়ে চাঁদা আদায়ের কাজে নিয়োজিত আছে 'লাঠি বাহিনী', 'যানজট বাহিনী' ও 'লাইন বাহিনী'।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক সমকালকে বলেন, পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা সমঝোতার ভিত্তিতে নিজেদের নির্ধারিত রেটে চাঁদা তোলে। চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। কেউ অভিযোগ করলে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক-মালিক সংগঠনের নেতৃত্বও বদলে যায়। পরিবহন মালিকদের মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজন রয়েছে। সব সময় ক্ষমতাসীনরাই পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে।
পরিবহন মালিকদের দেওয়া তথ্য ও সমকালের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৪৮টি কোম্পানির মালিকানায় ১৮ হাজার গাড়ি প্রতিদিন রাজধানীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন রুট এবং আশপাশের জেলায় চলাচল করে। দিনে প্রতিটি গাড়ি থেকে নূ্যনতম ৬০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এ হিসাবে ১৮ হাজার গাড়ি থেকে দিনে এক কোটি আট লাখ, মাসে ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন লীগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, ঢাকা জেলা বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, মহাখালী বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়ন, ফুলবাড়িয়া সড়ক পরিবহন যানবাহন ইউনিয়নসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে আদায় করা হচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ চাঁদা।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ গাড়িপ্রতি ৭০ টাকা। এর বাইরেও টার্মিনাল থেকে গাড়ি বের হতে যানজট বাহিনীকে দিতে হয় ২০ টাকা (কাঙালি চাঁদা হিসেবে পরিচিত), পরের ধাপ লাইনম্যানকে ২০ টাকা, টার্মিনালের গেট থেকে বের হলে সার্জেন্টের হাজিরা ফি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, দিতে দেরি হলে বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ টাকায়। টার্মিনালে প্রবেশের সময়ও দিতে হয় ২০ টাকা। পার্কিং বাবদ টার্মিনালের ইজারাদারকে দিতে হয় ৪০ টাকা। এছাড়া পথে পথে চাঁদাবাজ বাহিনীর আবদার মেটানোর পর দিন শেষে সব মিলিয়ে নূ্যনতম প্রতি গাড়ির জন্য মালিককে গুনতে হয় ৬০০ টাকা। সায়েদাবাদ টার্মিনাল, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান টার্মিনাল এবং গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মাওয়াসহ ৭৪টি রুটেই নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি।
একজন পরিবহন মালিক জানান, বর্তমানে পরিবহন চাঁদাবাজির প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন ইউনিয়ন নেতা কামরুল ইসলাম ও ইসমাইল হোসেন বাচ্চু। পরিবহন সেক্টরের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে গঠিত যৌথ কমিটির ১৮ নম্বর সদস্য এই ইসমাইল হোসেন বাচ্চু। তাদের অধীনে অর্ধশতাধিক লোক মাঠ পর্যায়ে চাঁদা তুলছে। আবার অনেক পরিবহন কোম্পানি মাসিক মাসোহারাও দিচ্ছে তাদের। কামরুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে অনেক দিন হাজতবাসও করেছেন তিনি। আর ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নামে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। এমন কথাও শোনা যায়, মাঝে মধ্যে ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেন তিনি।
সড়ক পরিবহন যানবাহন ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া শাখার সভাপতি কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, '২০-২১ বছর আগে থেকেই আমি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আমার বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ করতে পারবে না। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির নির্ধারিত ৭০ টাকার বেশি চাঁদা আদায় করা হয় না। একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু সমকালকে টেলিফোনে জানান, বিগত সরকার আমলে মালিকদের গাড়িপ্রতি দিনে ৬০০-৭০০ টাকা চাঁদা দিতে হতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে খোদ ডিএমপি কমিশনার চাঁদার পরিমাণ কমিয়ে মাত্র ৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।'
পূবালী ও রঙধনু পরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা জানান, ঢাকা সড়ক পরিবহনের আঞ্চলিক ও যুবলীগ নেতা আহসান উল্লাহ, কাশেম ও কাওসার জুরাইন এলাকার পরিবহন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। পূবালী পরিবহনের ৩০টি গাড়ি জুরাইন থেকে মিরপুর দিয়াবাড়ী রুটে চলাচল করে। একজন কর্মচারীর অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে এসব নেতা কয়েক দিন আগে জুরাইনের কাউন্টার বন্ধ করে দেন। পরে পূবালী পরিবহনের মালিক এসব নেতার সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার ভিত্তিতে কাউন্টার চালু করেন। এছাড়া রঙধনু পরিবহনের ২৫টি গাড়ি জুরাইন থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলাচল করে। চাঁদা দিয়েই এসব গাড়ি চালাতে হয়।
মিরপুর-পল্লবী এলাকায় পরিবহন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও পল্লবী থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আওলাদ হোসেন লাক্কু। র‌্যাবের কাছে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাব-৪-এর এক কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। যদিও আওলাদ হোসেন লাক্কু টেলিফোনে সমকালের কাছে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
-সমকাল

Image:11-03-10-4.jpg

উত্তরাঞ্চলে চাতাল মালিকদের কাছে জিম্মি ব্যাংক ব্যবসা

মোট ঋণের ৮০ ভাগ তাদের হাতে হ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ সামান্য
আব্দুল কাইয়ুম তুহিন: দেশের শস্যভাণ্ডারখ্যাত উত্তরাঞ্চলের ব্যাংক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন চাতাল মিল মালিকরা। ওই অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রায় সবক'টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশই যাচ্ছে চাতাল মালিকদের হাতে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এ অঞ্চলের ব্যাংকের শাখাগুলো মোট ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তারা ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা দিয়েছে চাতালে। বাকি ২৬০ কোটি টাকা দিয়েছে অন্যান্য খাতে। উৎপাদন খাতে এদের বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। এ খাত থেকে বেশি মুনাফা আসে বলে ব্যাংকগুলো চাতালে বেশি পরিমাণে ঋণ বিতরণ করছে। এসব ঋণ ব্যাংকগুলো দেখাচ্ছে কৃষি বা এসএমই খাতে। একই খাতে বেশি পরিমাণে ঋণ দিয়ে একদিকে যেমন ব্যাংকগুলো জিম্মি হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে ঋণের টাকায় তারা ধান-চাল মজুদ করে এগুলো দাম বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সমপ্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সরজমিনে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। আরও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে, শুধু ব্যাংকের ঋণের টাকায় চাতালের ব্যবসা করে অনেকে কোটিপতি বনে গেছেন। এ ব্যবসায় তাদের তেমন পুঁজিরও প্রয়োজন হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক অনুসন্ধানে এ চিত্র ধরা পড়ার পর এ খাতে ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি একটি সার্কুলার জারি করে চাতালে ধান-চাল কেনার জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৯০ দিন থেকে কমিয়ে ৪৫ ও ৬০ দিন করা হয়েছে। যেন ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ধান চালের অবৈধ মজুদ গড়তে না পারেন সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারপরও চাতাল ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমানো যাচ্ছে না। স্থানীয় ব্যাংকাররা বলেছেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে চাতালকে চিহ্নিত করা হলেও ঋণ বিতরণের বেলায় এসএমই খাতেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে অনেক ব্যাংক চাতালে দেওয়া ঋণকে দেখাচ্ছে এসএমই খাতের ঋণ হিসেবে, আবার কোনো ব্যাংক দেখাচ্ছে কৃষি খাতে। এতে ঋণ বিতরণের শ্রেণী বিভাগ নিয়েও দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।
সরেজমিন উত্তরাঞ্চল ঘুরে জানা গেছে, ব্যাংকগুলো চাতালে বেশি ঋণ দেওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঋণের টাকা পেয়ে চাতাল ব্যবসায়ীরা ধান-চাল কিনে তা মজুদ করছেন। এতে মৌসুমের সময়ও বাজারে চালের প্রবাহ কমে যাচ্ছে। মৌসুম চলে গেলে এগুলো তারা বিক্রি করছেন চড়া দামে। এতে প্রসারিত হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের জমজমাট ব্যবসা। ফলে প্রকৃত কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
ওই অঞ্চলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের মূল দায়িত্ব পালন করলেও ব্যাংকটির মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপকতা এত বেশি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলকেও তারা গুরুত্ব দেয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, উত্তরাঞ্চলে রাকাব কর্মকর্তারা কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করে চলেছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার বার বলা হলেও অদৃশ্য কোনো কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আর চাতালগুলোতে ঋণ দিয়ে তাদের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবেও কাজ করছেন অনেকে। এই অঞ্চলে কৃষি ঋণ বিতরণে অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বগুড়ার স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া জানান, চাতাল মালিকরা তাদের ইচ্ছেমতো ধান-চাল গুদামজাত করেন। অনেক চাতাল মালিকেরই নিজের কোনো টাকা ছিল না। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এখন তাদের অনেকেই কোটিপতি হয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের বগুড়া প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম ফনীন্দ্র ত্রিবেদী সমকালকে জানান, সোনালী ব্যাংক বগুড়া অঞ্চলে চলতি বছরের গত ছয় মাসে কৃষি ও এসএমই খাতে ১৬০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে শুধু চাতাল মালিকদেরই দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের শুধু সোনালী ব্যাংকই নয়, সব ব্যাংকই প্রায় একই হারে চাতাল মালিকদের ঋণ দিয়ে আসছে। বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংকের মোট ঋণের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ ঋণ যাচ্ছে চাতালে। এই এলাকায় বগুড়া লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিরাজগঞ্জে তাঁত শিল্পে কিছুটা এসএমই ঋণ বিতরণ করা হলেও উত্তরাঞ্চরের অন্য জেলাগুলোর ঋণের সিংহভাগই যাচ্ছে চাতালে। যা কৃষি ও এসএমই উভয় শিল্প খাতেই ব্যাংকাররা দেখিয়ে থাকেন।
-সমকাল

Image:11-03-10-5.jpg

দেশেই সয়াবিন থেকে দুধ উৎপাদন

শাহীন আলম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: সয়াবিন থেকে দুধ উৎপাদিত হবে। এ দুধ বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি বিক্রি হবে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ টাকা। পুষ্টিমান ও গুণগত মানের দিক থেকে গরুর দুধের কাছাকাছি মানের হবে এই দুধ। এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকবে না। সব শ্রেণী ও বয়সের মানুষ এই দুধ খেতে পারবে। বাণিজ্যিকভাবে দেশে এই দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করে একদিকে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থান করা সম্ভব, অন্যদিকে দুধের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১২শ' কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সফল হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে সয়াবিন থেকে দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। এতে প্রতি কেজি দুধের উৎপাদন খরচ পড়ছে মাত্রা ৬ থেকে ৭ টাকা। এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের আর্থিক সহযোগিতায় সয়া-দুধের ওপর গবেষণা শুরু করে। এটি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম এ গবেষণা সম্পাদনা করেন। বিশ্বের প্রায় দশটি পদ্ধতির সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি সয়া-দুধ তৈরির একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এ পদ্ধতিতে তৈরি দুধ দিয়ে দই, রসগোলল্গা ও রসমালাইসহ প্রায় ধরনের মিষ্টি জাতীয় পণ্য তৈরি এবং তরল দুধ হিসেবেও পান করা যাবে। এছাড়া আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনামূল্যে সয়া-দুধ উৎপাদনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পুষ্টি উপাদান : ড. নূরুল ইসলাম জানান, আদর্শ দুধে শতকরা ৮৭ দশমিক ৩ ভাগ পানি, ৩ দশমিক ৮ ভাগ প্রোটিন, সাড়ে ৩ ভাগ ফ্যাট, সাড়ে ৪ ভাগ সুগার এবং বিভিন্ন অনুপাতে খনিজ ও ভিটামিন থাকা উচিত। একটি শুষ্ক সয়াবিন দানার মধ্যে পানি, প্রোটিন, ফ্যাট, সুগার এবং বিভিন্ন অনুপাতে খনিজ উপাদান ও ভিটামিন থাকে। এই পুষ্টি উপাদানগুলো সয়াবিন থেকে সংগ্রহ করে এর অনুপাত সমন্বয়ের মাধ্যমে সয়া-দুধ তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, তার উদ্ভাবিত পদ্ধতি অনুযায়ী তৈরি সয়া-দুধে প্রতি একশ' গ্রামে ৮৯ দশমিক ০২ গ্রাম পানি, ৩ দশমিক ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৩ গ্রাম ফ্যাট, ৩ দশমিক ৭৮ ভাগ সুগার, ৬ গ্রাম খনিজ এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাওয়া গেছে। এ দুধ গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে সব বয়সের মানুষ পান করতে পারবেন। তবে সমস্যা হচ্ছে, সয়া-দুধে হালকা সয়াবিনের গন্ধ থাকে। চেষ্টা করা হচ্ছে কোনোভাবে এ গন্ধ দূর করা যায় কি-না। সয়া-দুধের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য_ এটি সব বয়সের মানুষ হজম করতে পারে। পৃথিবীর প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ লোক গরুর দুধ হজম করতে পারে না। কারণ এসব প্রাকৃতিক দুধে ল্যাকটোজ নামে এক ধরনের সুগার থাকে। ল্যাকটোজ হজম করতে ল্যাকটেজ এনজাইমের প্রয়োজন হয়। এসব মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় ল্যাকটেজ এনজাইমের অভাব থাকায় প্রাকৃতিক দুধ হজম করতে তারা ব্যর্থ হন। এছাড়া প্রাকৃতিক দুধে থাকে সম্পৃক্ত ফ্যাট। এটি হার্টঅ্যাটাকের জন্য দায়ী। সয়া-দুধে সম্পৃক্ত ফ্যাটের পরিবর্তে থাকে অসম্পৃক্ত ফ্যাট যা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এ কারণে সব বয়সের মানুষ সয়া-দুধ পান করতে পারেন।
বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের মধ্যে সয়া-দুধ উৎপাদনের প্রযুক্তি হস্তান্তরে আগ্রহী আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং, বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মোহাম্মদ জহুরুল হক জানান, অপ্রতুলতা এবং চড়া দামের কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দুধ খেতে পারেন না। সয়া-দুধ উৎপাদনে খরচ খুবই কম বলে এটি বাংলাদেশে বেশ সম্ভাবনাময়। বিশ্বের প্রায় সবক'টি দেশে সয়া-দুধ উৎপাদিত হলেও বিগত দুই বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে সয়া-দুধ আমদানি হচ্ছে। ঢাকার সুপার মার্কেটগুলোতে এসব সয়া-দুধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এ দুধ দেশে উৎপাদন হলে প্রতি লিটারের দাম পড়বে মাত্র ৬-৭ টাকা। খুচরা বাজারে গিয়ে হয়তো আরও কিছুটা বাড়বে। সমস্যা হচ্ছে, সয়াবিন থেকে যে দুধ হতে পারে তা দেশের অধিকাংশ মানুষেরই অজানা। জহুরুল হক বলেন, আমেরিকা সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের নীতি অনুসারে তারা চেষ্টা করছেন এ দেশের উদ্যোক্তাদের কাছে এ প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে। এর জন্য তারা কোনো ফি নেবেন না।
ইতিহাস : সয়া-দুধের ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীনে প্রথম সয়া-দুধের ব্যবহার শুরু হয়। বাংলাদেশ বাদে বিশ্বের প্রায় সবক'টি দেশে সয়া-দুধ উৎপাদিত হয়। সবচেয়ে বেশি সয়া-দুধ ব্যবহার হয় চীন ও জাপানে। ভারতে বছরে প্রায় পাঁচশ' কোটি টাকার সয়া-দুধ বিক্রি হয়। আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বল্পমূল্যে পুষ্টি জোগানোর যে বিশেষ প্রকল্প জাতিসংঘ হাতে নিয়েছে তাতে সয়া-দুধকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
-সমকাল

Image:11-03-10-6.jpg

সবাইকে চমকে দিয়ে রকিবুলের অবসর

ক্রীড়া প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম একাদশটা নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেই। কিন্তু আগামীকাল রকিবুল হাসানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশ দলকে। শুধু এই টেস্টে নয়, কোনো ধরনের ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না রকিবুলকে। মাত্র ২২ বছর বয়সে সবাইকে চমকে দিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান। প্রথমে মৌখিকভাবে, পরে চিঠি দিয়ে বোর্ডকে জানিয়েছেন একান্তই ব্যক্তিগত কারণে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
প্রস্তুতি ম্যাচের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করে টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার পর গত পরশু রাতেই দলের সঙ্গে হোটেলে উঠেছিলেন রকিবুল। কাল অনুশীলেনও এসেছিলেন, তবে মাঠে নামেননি, বসে ছিলেন ড্রেসিংরুমেই। ঐচ্ছিক অনুশীলন বলেই এটা নিয়ে বাড়তি কিছু ভাবা যায়নি। কিন্তু আসল ঘটনাটা বোঝা যায় একটু পর। বাংলাদেশ দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, অনুশীলন থেকে হোটেলে ফিরে যাওয়ার সময় বাসে অনেকটা নাটকীয়ভাবেই উঠে দাঁড়ান রকিবুল। সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি আর ক্রিকেট খেলতে চান না, অবসর নিতে চান সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই। ঘটনার আকস্মিকতায় কোচসহ দলের সব ক্রিকেটার হতভম্ব হয়ে যান। সবাই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে হোটেলে এসেও অধিনায়ক, কোচসহ দলের সবাই তাঁকে বোঝান। কোচ জেমি সিডন্স নাকি তাঁকে ৪-৫ ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কাজ হয়নি তাতেও। পরে টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে তাঁকে বলা হয় অন্তত কালকের রাতটা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন রকিবুল। পরে দলের পক্ষ থেকে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর বাবাও ফোন করে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লাভ হয়নি।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস প্রধান এনায়েত হোসেনকে ফোনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান রকিবুল। এনায়েত হোসেন, প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে ব্যর্থ হন। পরে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা জানিয়ে ক্রিকেট অপারেশসনসের কাছে চিঠি দেন রকিবুল। রকিবুলের সিদ্ধান্তে হতবাক মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসও, ‘পুরো ঘটনা বিস্ময়কর। আমরা ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু লাভ হয়নি।’
রকিবুলের সিদ্ধান্তে অবাক ‘এ’ দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলও, ‘গত কয়েক দিন আমরা একসঙ্গেই ছিলাম, কিন্তু এ ধরনের কিছু হতে পারে এর কোনো আভাস পাইনি, বরং দলে ফিরতে পেরে খুশিই ছিল ও।’ অবসরের মূল কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টাও চলেছে, কিন্তু বারবারই তিনি বলেছেন ব্যক্তিগত। তবে রকিবুলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৩০ জনের দলে জায়গা না পেয়ে ভীষণ হতাশ হয়েছেন তিনি, দুঃখ পেয়েছেন ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েও। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ম্যাচের পর রকিবুল নাকি এমনও বলেছেন, ‘এই প্রস্তুতি ম্যাচেই নিজের সবটুকু দিয়ে দিয়েছি, আর ক্রিকেট খেলতে চাই না।’ আরেকটি সূত্র আবার বলছে, ঘটনাটা এত ‘জলবত্ তরলং’ নাও হতে পারে। থাকতে পারে অন্য কারণও, সাম্প্রতিক সময়ে রকিবুলকে নাকি দলের ভেতর অনেকেই নানাভাবে ‘টিজ’ করত, এতেও তিনি মনে আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের ফোনে নাকি রকিবুল বলেছেন, ঢাকায় ফিরে সবাইকে বিস্তারিত জানাবেন। কাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকেই ঢাকার উদ্দেশে হোটেল ছেড়েছেন।
টেস্ট দলে রকিবুলের বদলি হিসেবে রাজশাহীর ওপেনার জহুরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
-প্রথম আলো

Image:11-03-10-7.jpg

পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ইউনুস ইউসুফ নিষিদ্ধ

স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তানের হয়ে আর কোনোদিন ক্রিকেট মাঠে দেখা যাবে না মোহাম্মদ ইউসুফ এবং ইউনুস খানকে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রকাশ্যেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তারা। সিরিজে টানা ৯ ম্যাচ হারের রেকর্ডের পর দলের বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) গঠন করেছিল একটি তদন্ত কমিটি। সেই কমিটির সুপারিশেই ইউসুফ-ইউনুসকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো ধরনের জাতীয় দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। একই অপরাধে সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক ও সিনিয়র ক্রিকেটার রানা নভেদকে জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এক বছরের জন্য। ২০ লাখ রুপিও জরিমানা গুনতে হবে তাদের। তদন্ত কমিটি এখানেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেননি। পার্থে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আলোচিত বল টেম্পারিংয়ের অপরাধে ৩০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে শহীদ আফিদ্রিকে। দুই সহোদর কামরান ও ওমর আকমলের জন্যও কোনো ছাড় ছিল না। ২০ লাখ রুপি করে জরিমানা গুনতে হবে দু'ভাইকে। পাশাপাশি তাদের তিনজনকেই আগামী ছয় মাস থাকতে হবে কড়া নজরদারির মধ্যে।
গতকাল পিসিবির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্তর্কলহ আর শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের ভরাডুবি ঘটেছে। তাদের এমন সব কাজে দেশ-জাতি-দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিবৃতিতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, 'মোহাম্মদ ইউসুফ আর ইউনুস খানের মধ্যে বিদ্যমান অন্তর্কলহ অস্ট্রেলিয়া সফরেও বন্ধ হয়নি। বিষয়টি বরং আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো দলের ওপর পড়েছে। তাদের আচরণে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে।
-সমকাল

Personal tools
Create a book